সফল উদ্যোক্তা মোহাম্মদ শাহ আলম: একজন দূরদর্শী শিক্ষানুরাগী এবং নিষ্ঠাবান সমাজসেবক
ক্ষুদ্র ব্যক্তিস্বার্থের গন্ডি পেরিয়ে সমাজ ও দেশ নিয়ে যারা ভাবতে পারেন, নতুন প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নিয়ে যারা চিন্তা করেন, তারা নিঃসন্দেহে মহান মানুষ। লোভ-লালসা, নৈতিক অবক্ষয় এবং লাগামহীন সম্পদলিপ্সার এই যুগে এমন ব্যক্তিত্বের সংখ্যা খুব বিরল। মানুষ বড় হয়, তার উন্নত চিন্তা ও সুন্দর স্বপ্নের কারণে। আমাদের সময়ের বরেণ্য সাহিত্যিক অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ স্যার বলেন, ”মানুষ তার স্বপ্নের সমান বড়।” আমরা কীসের স্বপ্ন দেখি? নিজের উজ্জ্বল ক্যারিয়ারের স্বপ্ন, সুখী ও সমৃদ্ধ পরিবারের স্বপ্ন, একটি আলোকিত সমাজের স্বপ্ন, ন্যায় ও ইনসাফে গড়া একটি মানবিক রাষ্ট্রের স্বপ্ন, সকল বনি আদমের জন্য একটি বাসযোগ্য পৃথিবী স্বপ্ন। এই স্বপ্নগুলোই তো সারাজীবন তাড়িয়ে বেড়ায় মহান মানুষদের। আজকের দুনিয়ায় যা কিছু সুন্দর তা তো এমন মহান মানুষদের মাধ্যমেই আল্লাহ রাব্বুল আলামিন পৃথিবীকে দান করেছেন।

প্রচার-বিমুখ প্রতিভাবান উদ্যোক্তা আলহাজ্ব মোহাম্মদ শাহ আলম এমনই একজন মানুষ। জন্মগ্রহণ করেছেন খুবই নিম্নবিত্ত একটি পরিবারে। শৈশব থেকেই চারপাশে কেবল দেখেছেন দরিদ্র মানুষ আর দারিদ্র্যের তাণ্ডব। মানুষের দুঃখ-কষ্ট আর যন্ত্রণা দেখেই শিক্ষাজীবনের শেষ পর্যায়ে এসে তার মনে জেগেছিল সুদূর পাড়ি দেওয়ার স্বপ্ন, দরিদ্র মানুষদের নিয়ে কিছু করার স্বপ্ন, তাদের পাশে দাঁড়ানোর স্বপ্ন, উদ্যোক্তা হয়ে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের স্বপ্ন। শিক্ষকতার মাধ্যমেই শুরু হয় তার এই স্বপ্নময় যাত্রা। শিক্ষকতা করতে গিয়ে তিনি শিশু, কিশোর ও তরুণ শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে দেখেন। বোঝার চেষ্টা করেন সমাজের গতিপ্রকৃতি এবং দেশের শিক্ষাব্যবস্থার ভবিষ্যৎ। এই দিনগুলোতে তিনি দুটি সমস্যা খুবই গভীরভাবে উপলব্ধি করেন: একটি হলো নৈতিক শিক্ষার অনুপস্থিতি এবং অপরটি বেকারত্ব ও দারিদ্রতা। তিনি তখন থেকেই স্বপ্ন দেখেন, দেশের ও সমাজের জন্য কিছু করার।

বড় কিছু করার পরিকল্পনা নিয়ে তিনি শিক্ষকতা ছেড়ে প্রথমে গড়ে তোলেন এস.এ কর্পোরেশন নামের একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। যেহেতু তিনি নিম্নবিত্ত পরিবার থেকে আসা, শুরুর দিনগুলো তার জন্য ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জের। প্রতিটি ধাপেই তাকে পাড়ি দিতে হয়েছে নানান চড়াই-উৎরাই। আজ এস.এ কর্পোরেশন একটি সফল প্রতিষ্ঠান। শত শত যুবকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে। হাজারো মানুষের স্বপ্ন ও ভবিষ্যৎ জড়িয়ে আছে এই প্রতিষ্ঠানের সাথে। সুন্দর ও কল্যাণমূলক চিন্তা একজন সাধারণ পরিবারের সন্তানকে কোথায় নিয়ে যেতে পারে, জনাব মোহাম্মদ শাহ আলম তার জ্বলন্ত উদাহরণ।
কর্মজীবনে এসে তিনি দেখতে পান, দেশ ও সমাজের প্রতিটি ক্ষেত্রে ছড়িয়ে আছে অন্যায়, অবিচার ও দুর্নীতির কালো ছায়া। তিনি উপলব্ধি করতে পারেন, শিক্ষাই পারে আমাদের পরিবার, সমাজ ও দেশকে দুর্নীতির করাল গ্রাস থেকে বাঁচাতে। তিনি এমন এক প্রজন্মের স্বপ্ন দেখেন, যে প্রজন্ম সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলবে। যারা নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত হবে; সুন্দর চরিত্র ও মূল্যবোধ বুকে ধারণ করবে; যারা অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে। কিন্তু দেশের বিদ্যমান শিক্ষাব্যবস্থার দিকে তাকিয়ে তিনি হতাশ হন। বুঝতে পারেন, এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে হলে, আমাদের দরকার বিশেষায়িত কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, যেখানে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা শেখানো হবে, শিশুদের কচিমনে রোপণ করা হবে ন্যায় ‘ও ইনসাফের বীজ।
এই চিন্তা তাকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার দিকে মনোযোগী করে তোলে। প্রথমে নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর শিশুদের জন্য তিনি গড়ে তুলে তাওহীদুল উম্মাহ নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এটি একটি এতিমখানাও বটে। শত শত এতিম, গরিব ও অসহায় শিশু এই প্রতিষ্ঠানে শিক্ষালাভ করার সুযোগ লাভ করে। এই প্রতিষ্ঠানে সাফল্য লাভের পর তিনি তার স্বপ্নকে আরও এগিয়ে নিতে ব্রতী হন। একই এরিয়ায় অর্থাৎ চট্টগ্রামের আইস ফ্যাক্টরি রোডে তিনি গড়ে তোলেন আরও একটি বিশেষায়িত শিক্ষপ্রতিষ্ঠান: আল-হামিম ইনস্টিটিউট। চমৎকার কারিকুলাম, নৈতিক শিক্ষার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ এবং সৃজনশীল পাঠদান পদ্ধতির কারণে তিন বছরেরও কম সময়ে প্রতিষ্ঠানটি চারদিকে দারুণভাবে সাড়া ফেলে। এই প্রতিষ্ঠানকে তিনি একটি মডেল হিসেবে দাঁড় করাতে চান, যার আদলে তিনি পুরো দেশে একটি শিক্ষাবিপ্লবের গোড়াপত্তন করতে চান।
প্রতিষ্ঠান গড়ার যে দীর্ঘ কর্মযজ্ঞ এবং অভিজ্ঞতা তার আলোকে তিনি বুঝতে পারেন, এই দেশে নারীশিক্ষার বিষয়টি এখনো অবহেলিত। এখনো দেশে নারীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন আমরা গড়ে তুলতে পারিনি। নারীদের একজন আদর্শ মা হিসেবে গড়ে তোলার যে সামগ্রিক প্রয়াস দরকার তা এখনো জাতি হিসেবে আমাদের করা হয়ে উঠেনি। সম্রাট নেপোলিয়ন বোনাপার্ট বলেছিলেন, আমাকে একটি শিক্ষিত মা দাও, আমি একটি শিক্ষিত জাতি উপহার দেব।” সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী নারীদের শিক্ষাদীক্ষায় পিছিয়ে থাকার বিষয়টিও জনাব মোহাম্মদ শাহ আলমের নজর এড়ায়নি। তিনি এই অঙ্গনেও কিছু অবদান রাখতে ব্রতী হন। ২০২৪ সালে নগরীর প্রাণকেন্দ্রে আন-নিসা একাডেমি নামে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যেখানে নারীদের জন্য নিরাপদ শিক্ষাঙ্গন এবং উন্নত মানের শিক্ষা ও আবাসনের ব্যবস্থা গড়ে তুলতে তিনি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

চিন্তায়, মননে, কর্মতৎপরতায় মোহাম্মদ শাহ আলম বর্তমান সময়ের জন্য একজন কল্যাণময় সমাজসেবকের সুন্দর উদাহরণ। এই ধরনের গঠনমূলক ও দূরদর্শী লোক যে সমাজে যত বেশি হবে, সেই সমাজ তত বেশি সুন্দর হবে। আজকে সমাজের সর্বত্র আমরা যে বিশৃঙ্খলা ও অরাজকতা দেখতে পাই, তা মূল কারণ দায়িত্বশীল ও নিষ্ঠাবান নেতৃত্বের অভাব, মানবিকবোধসম্পন্ন মানুষের ব্যাপক অনুপস্থিতি। আর এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে সবচেয়ে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। তাই তিনি স্বপ্ন দেখেন দেশজুড়ে মানসম্মত হাজারো সিরিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের, তিনি ব্যাপকভাবে অংশগ্রহণ করতে চান জাতিগঠনে, এক আলোকিত প্রজন্ম বিনির্মাণে। তিনি গড়ে তুলতে চান আন্তর্জাতিক মানের মাদরাসা, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়। তিনি যখনই সমাজের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় করেন, প্রায়ই বলেন:
“আমরা এমন একটি প্রজন্ম গড়ে তুলতে চাই, যারা সাদাকে সাদা এবং কালোকে কালো বলবে।”

জনাব মোহাম্মদ শাহ আলম এখন আর কোনো ব্যক্তির নাম নয়, তিনি এখন এক বটবৃক্ষ। শত শত পরিবারের অভিভাবক। হাজারো শিশুর জন্য তিনি আলোর ফেরিওয়ালা। মানুষ যেখানে দুর্নীতি করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তোলে এবং ভোগ-বিলাসে গা ভাসিয়ে দেয়, সেখানে স্থাপন করেছেন তার বিপরীত নজির। চট্টগ্রাম স্টেশন কলোনী যেখানে একসময় মদ-জুয়ার আসর বসত, প্রকাশ্য দিবালোকে খুন-ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটত, এমন একটি নোংরা এলাকাকে তিনি সংস্কার করেছেন। স্থানীয় ও বহিরাগত শিশুদের জন্য বিনামূল্যে শিক্ষার ব্যবস্থা করেছেন, এলাকার সুস্থ ও সুন্দর পরিবেশ গড়ে তুলতে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কাজ করেছেন। তার এ সাফল্য আজ মানুষের মুখে মুখে। তার চিন্তার সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য হলো দূরদর্শিতা। তার মতে, স্বপ্ন হতে হবে এমন বড় এতটা আকাশচুম্বী, যা আপনি সারা জীবন তাড়িয়ে বেড়াবেন, ধাপে ধাপে সাফল্যের নতুন নতুন চূড়া স্পর্শ করবেন; স্বপ্নের পিছু ছুটতে ছুটতে অসংখ্য সাফল্যের সৌভাগ্য নিয়ে একদিন আপনি আপনার রবের দরবারে হাজির হবেন। তবে পৃথিবীকে বিদায় জানানোর আগেই আপনি এমন একটি প্রজন্ম রেখে যাবেন যারা আপনার রেখে যাওয়া অসমাপ্ত মিশন নিয়ে দৃঢ়পদে সামনে এগিয়ে যাবে। এই প্রজন্মও মিশনকে অনেক দূর এগিয়ে নিয়ে যাবে। তারপর এই প্রজন্মও চলে যাবে আল্লাহর কাছে, পরবর্তী প্রজন্ম এসে তাদের দায়িত্বভার বুঝে নেবে। এভাবে প্রজন্ম পরম্পরায় এই স্রোত গিয়ে মিশবে ইমাম মাহদি আলাইহিস সালামের মুবারক কাফেলায়, যার নেতৃ্ত্বে গড়ে উঠবে সুখী, সমৃদ্ধ ও আলোকিত এক পৃথিবী, কাঁচা-পাকা প্রতিটি ঘরে প্রবেশ করবে ইসলাম ও ইনসাফের আলো।
জনাব মোহাম্মদ শাহ আলম কেবল সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিত্ব যে তা নয়, তিনি একজন সাহিত্য ও সংস্কৃতিমনা একজন সংগঠকও বটে। তিনি বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনে তার মূল্যবান অবদান রেখেই চলেছেন। সামাজিক কল্যাণ ও জনসচেতনামূলক বিভিন্ন প্রোগ্রামে তিনি যখন কথা বলেন, তখন প্রায়ই তাকে তার স্বপ্নের কথা বড় উৎসাহ ও উদ্দীপনার সঙ্গে তুলে ধরতে দেখা যায়। তিনি প্রায়শ বলেন, নৈতিক শিক্ষা ব্যতীত পতনের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে থাকা পচনধরা এই সমাজকে বাঁচানো সম্ভব নয়। কখনো তিনি স্বপ্নকাতর কণ্ঠে বলেন:
“নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন আলোকিত একটি প্রজন্ম গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।”